Share News সৌরভ বিশাই, কলকাতা : বাম রাজনীতির ইতিহাসে তরুণদের ভূমিকা সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ। কলেজ স্ট্রিট থেকে যাদবপুর—ছাত্র আন্দোলন, শ্রমিক রাজনীতি, বুদ্ধিবৃত্তিক বিতর্কে একসময় বামপন্থাই ছিল তরুণদের প্রথম পছন্দ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই চিত্র দ্রুত বদলাচ্ছে। Communist Party of India (Marxist) বা সিপিএম-এর অন্দরেই এখন প্রশ্ন উঠছে—তরুণ ব্রিগেড কি ধীরে ধীরে বাম রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে? প্রতীক উর রহমানের মতো তরুণ মুখকে ঘিরে যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, তা আসলে একটি বৃহত্তর প্রবণতার ইঙ্গিত। আজকের তরুণ প্রজন্ম কেবল আদর্শের কথা শুনতে চায় না; তারা চায় স্পষ্ট রাজনৈতিক রোডম্যাপ, সিদ্ধান্তগ্রহণে অংশগ্রহণ এবং বাস্তব সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান। বাম রাজনীতির কাঠামো যেখানে এখনও অনেকাংশে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ, দীর্ঘ বৈঠক ও তাত্ত্বিক বিতর্কে আটকে, সেখানে তরুণদের মনে হচ্ছে—তাদের কণ্ঠস্বর যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না। আরও একটি বড় কারণ হলো সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে না পারা। সামাজিক মাধ্যম, ডিজিটাল রাজনীতি, দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল ক্যাম্পেন—এই সব ক্ষেত্রে বাম শিবির তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে। তরুণ নেতারা যখন নতুন ভাষা ও নতুন মাধ্যম ব্যবহার করতে চান, তখন দলীয় শৃঙ্খলা ও ‘লাইন’-এর অজুহাতে অনেক সময় সেই উদ্যোগ রুদ্ধ হয়ে যায়। ফলস্বরূপ জন্ম নেয় হতাশা। এছাড়াও রয়েছে ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার প্রশ্ন। বহু তরুণ কর্মী মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের জন্য কাজ করেও রাজনৈতিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার স্পষ্ট পথ নেই। নেতৃত্বের পরিবর্তন ধীর, নতুন মুখের উত্থান সীমিত। এই অবস্থায় কেউ কেউ রাজনীতি থেকে সরে যাচ্ছেন, কেউ আবার বিকল্প প্ল্যাটফর্ম বা ভিন্ন রাজনৈতিক ধারার দিকে ঝুঁকছেন। সব মিলিয়ে বলা যায়, তরুণ ব্রিগেডের এই বিমুখতা কোনো ব্যক্তিগত অভিমান নয়, বরং একটি কাঠামোগত সংকেত। বাম রাজনীতি যদি আবার তরুণদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে চায়, তবে তাকে আত্মসমালোচনার পথে হাঁটতে হবে—আদর্শের পাশাপাশি বাস্তবতা, শৃঙ্খলার পাশাপাশি অংশগ্রহণ, আর অতীতের গৌরবের বদলে ভবিষ্যতের স্বপ্ন তুলে ধরতেই হবে। নচেৎ এই দূরত্ব আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কাই বেশি। Post navigation বৃষ্টিতে বদলে গেল ইতিহাস: সুপার এইটে জিম্বাবোয়ে, বিশ্বকাপ থেকে বিদায় অস্ট্রেলিয়ার হোলির আগে রান্নাঘরে আগুন, গ্যাসের দামে ফের লাফ