Share News সৌরভ বিশাই, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক অদ্ভুত সমীকরণ আবারও সামনে এলো। যিনি জীবনে একাধিকবার ভোটে লড়েও জয়ের মুখ দেখেননি, সেই রাহুল সিনহাকেই রাজ্যসভায় প্রার্থী করল বিজেপি। গণতন্ত্রে ভোটে জয়ই যেখানে রাজনৈতিক বৈধতার প্রধান মাপকাঠি, সেখানে পরাজয়ের ধারাবাহিকতা সত্ত্বেও উচ্চকক্ষে মনোনয়ন—এ সিদ্ধান্ত নিছক সাংগঠনিক নয়, বরং স্পষ্টতই কৌশলগত। বিধানসভা ভোটের আগে বাংলায় বিজেপির কাছে প্রতিটি পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২১-এর পর সংগঠনের ভেতরে যে টানাপোড়েন, নেতৃত্বের প্রশ্ন ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের আভাস মিলেছে, তার মাঝেই এই সিদ্ধান্ত এক বিশেষ বার্তা দেয়—দল আনুগত্য ও ‘হার্ডলাইন’ অবস্থানকে মূল্য দিচ্ছে, নির্বাচনী জয়-পরাজয়কে নয়। রাহুল সিনহা বরাবরই দলের আক্রমণাত্মক মুখ। ভোটে জিততে না পারলেও টেলিভিশন স্টুডিও থেকে রাজপথ—দলীয় অবস্থান রক্ষায় তিনি নিরন্তর সক্রিয়। রাজ্যসভায় তাঁকে পাঠানো মানে বিজেপি এক বিশ্বস্ত কণ্ঠকে সংসদীয় মঞ্চে স্থাপন করল। তবে এই পদক্ষেপের রাজনৈতিক পাঠ আরও গভীর। বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপি কি কর্মীদের বোঝাতে চাইছে—“দলে থাকুন, লড়াই করুন, পুরস্কার আসবেই”? নাকি এটি এমন এক বার্তা, যেখানে জয়ের চেয়ে মতাদর্শিক লড়াই ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি আস্থা বেশি গুরুত্বপূর্ণ? বিরোধীরা ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলছে—জনসমর্থনে ব্যর্থ একজন নেতাকে পরোক্ষ নির্বাচনে পাঠানো কি গণতান্ত্রিক নৈতিকতার পরিপন্থী নয়? অন্যদিকে, বিজেপির কৌশল হতে পারে ভিন্ন। সরাসরি ভোটে বারবার পরাজিত মুখকে রাজ্যসভায় বসিয়ে দল হয়তো সংগঠনের পুরনো শিবিরকে সন্তুষ্ট রাখতে চাইছে, যাতে বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভাঙন না বাড়ে। এই মনোনয়ন তাই একদিকে পুরস্কার, অন্যদিকে প্রাক-নির্বাচনী বার্তা। শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন থেকেই যায়—এটি কি আত্মবিশ্বাসের প্রকাশ, নাকি সংগঠন সামলানোর কূটচাল? বিধানসভা ভোটই তার উত্তর দেবে। তবে আপাতত রাজ্যসভা প্রার্থী হিসেবে রাহুল সিনহার নাম ঘোষণায় স্পষ্ট—বাংলার রাজনৈতিক দাবায় বিজেপি আগাম চাল দিয়ে রাখল। Post navigation সিপিএমের আইএসএফ প্রীতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ, রফা ভাঙলে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াই’-এর ইঙ্গিত যাত্রী নিরাপত্তা কি সুরক্ষিত? সল্টলেক মেট্রোতে চাঙড় খসে উদ্বেগ