Share News

সানু, এখন কলকাতা ; মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব এবার কলকাতার হেঁশেলেও পড়তে শুরু করেছে। রান্নার গ্যাসের জোগান স্বাভাবিক রাখতে আপাতত নতুন করে এলপিজি ডবল সিলিন্ডারের সংযোগ দেওয়া বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তেল সংস্থাগুলির তরফে ডিস্ট্রিবিউটরদের জানানো হয়েছে, কোনও গ্রাহক দ্বিতীয় সিলিন্ডারের জন্য আবেদন করলেও আপাতত তা অনুমোদন না করতে। ফলে যাদের বাড়িতে এখন একটি মাত্র সিলিন্ডার রয়েছে, তাদের আপাতত সেটিই ব্যবহার করতে হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে গ্যাস ডিলারদের সূত্রে জানা গিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালীর অনিশ্চয়তা। এই জলপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ যাতায়াত করে। যুদ্ধের কারণে সেখানে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে ভারতের এলপিজি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। কারণ দেশে ব্যবহৃত মোট এলপিজির প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশই আমদানি করা হয়, যার বেশিরভাগই উপসাগরীয় দেশ থেকে আসে এবং হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে ভারতে পৌঁছায়।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে প্রায় ৩০ দিনের এলপিজি মজুত রয়েছে। তবে নির্ধারিত জাহাজ দেরিতে পৌঁছালে সরবরাহে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই আশঙ্কায় অনেকেই আগেভাগে সিলিন্ডার বুকিং করছেন, ফলে মজুত দ্রুত কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই অযথা আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত সিলিন্ডার মজুত না করার জন্য সাধারণ মানুষকে অনুরোধ জানিয়েছে সরকার।

এদিকে সমাজমাধ্যমে তেলের দাম বাড়ার গুজব ছড়ানোয় পেট্রল পাম্পগুলোতেও ভিড় বাড়ছে। অনেকেই আগেভাগে গাড়ির ট্যাঙ্ক ভরে নিচ্ছেন। তবে পাম্প মালিকদের মতে, এখনও তেলের জোগান স্বাভাবিক রয়েছে। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে দামে কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।