Share News নিউজ ব্যুরো, এখন কলকাতা ; ফাইনালের আগে ভয়াবহ ব্যক্তিগত শোকের মধ্যেও অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দিলেন ভারতের তারকা ক্রিকেটার ঈশান কিষান। আহমেদাবাদে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ ফাইনালের আগের দিনই গাড়ি দুর্ঘটনায় তাঁর তুতো দিদি ও জামাইবাবুর মৃত্যু হয়। বাড়ি থেকে ফোনে বাবার কাছ থেকেই সেই মর্মান্তিক খবর পান তিনি। পরিবারে নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। তবুও দেশের দায়িত্বকে প্রাধান্য দিয়ে মাঠে নামেন ঈশান। ফাইনালে ২৫ বলে বিধ্বংসী ৫৪ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। একের পর এক বাউন্ডারি ও ছক্কায় নিউজিল্যান্ডের বোলারদের চাপে রাখেন। শুধু ব্যাট হাতেই নয়, ফিল্ডিংয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন ঈশান, নেন দুটি অসাধারণ ক্যাচ। তাঁর এই পারফরম্যান্স ভারতকে বিশ্বকাপ জয়ে বড় ভূমিকা রাখে। ম্যাচের পর আবেগঘন কণ্ঠে ঈশান জানান, ফাইনালের আগে দিদির মৃত্যুসংবাদ পেয়ে তিনি ভেঙে পড়েছিলেন। নেটে ঠিকমতো অনুশীলনও করতে পারেননি। সেই সময় সতীর্থরা তাঁকে মানসিকভাবে ভরসা দেন। বিশেষ করে হার্দিক পাণ্ড্য তাঁকে দলের কথা ভাবতে বলেন। তখনই ঈশান ঠিক করেন, বিশ্বকাপ জিততে পারলে সেই ট্রফি তিনি দিদির উদ্দেশেই উৎসর্গ করবেন। ফাইনালে অর্ধশতরান করার পর আকাশের দিকে ব্যাট তুলে দিদির স্মরণ করেন তিনি। ম্যাচ শেষে ঈশান বলেন, “ম্যাচের আগে জানতে পারি দিদি গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছে। ওর জন্যই ভালো খেলেছি। আজ নারী দিবসে বিশ্বকাপ জিতে তাঁকেই ট্রফি উৎসর্গ করছি।” এই বিশ্বকাপ ঈশানের কাছে ছিল প্রত্যাবর্তনের লড়াইও। ডাবল সেঞ্চুরি করেও একসময় দল থেকে বাদ পড়েছিলেন তিনি। পরে ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করে আবার জাতীয় দলে জায়গা করে নেন। বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পাওয়ার পর সূর্যকুমার যাদব ফোন করে তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “বিশ্বকাপ জেতাবি?” ঈশানের জবাব ছিল, “আমাকে ভরসা করো?” — আর সেই ভরসারই প্রতিদান দিলেন তিনি বিশ্বজয়ের মঞ্চে। Post navigation নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে জয় ভারতের, উচ্ছ্বাসে মেতে উঠল গোটা দেশ ইরান যুদ্ধ শেষ? ট্রাম্পের মন্তব্যে বাড়ছে ধোঁয়াশা